নেদারল্যান্ডসে ট্রামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩, হামলাকারী তুরস্কের নাগরিক


নেদারল্যান্ডসে যাত্রীবাহী ট্রামের ভেতর বন্দুকধারীর গুলিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯ জন। স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১১টার দিকে দেশটির ইউট্রেফ শহরে একটি ট্রাম স্টেশনের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এক তুর্কি এই হামলা চালিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইউট্রেফ শহরের মেয়রের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।
এই হামলার পর পর ইউট্রেফ শহরের সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট তাঁর জোট সঙ্গীদের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন। পরে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, সম্ভবত এটি সন্ত্রাসী হামলা। জড়িতদের কাউকে ক্ষমা করা হবে না। তিনি এই হামলায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটির পুলিশ এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে। পুলিশ বলছে, তুরস্কের এক নাগরিক এ হামলা চালিয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ‘গোকম্যান তানিস’। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট মাঠে নেমেছে।

ইউট্রেফ শহরে হামলার পরপর ওই স্টেশন এলাকা ঘিরে ফেলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দ্রুতই সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে যাতায়াতের জন্য জনগণকে রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে তিনটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ধস্তাধস্তির পর তিনি এক নারীকে সেখানে শুয়ে থাকতে দেখেন। বাকিরা দৌড়ে পালাচ্ছিলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ট্রামের ভেতরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি একজন নারীকে আহত অবস্থায় পেয়েছেন। তাঁর হাতে রক্ত ছিল। ওই নারী অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
নেদারল্যান্ডসের অ্যান্টি-টেররিজম সমন্বয়ক পিটার-জ্যাপ আলবার্সবার্গ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হামলাকারীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। এখনো অনেক বিষয়েই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ