মুসলিমদের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রমজান?


বছর ঘুরে আবারও এসেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রমজান বা সিয়াম সাধনার মাস। গত সোমবার থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। আর বাংলাদেশে রোজা শুরু হলো আজ মঙ্গলবার থেকে। এই পবিত্র মাস নিয়ে এখানে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:মুসলিমদের চন্দ্রবর্ষের নবম মাস রমজান। রোজা বা সিয়াম প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসেলিমের জন্য ফরজ। এই মাসে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তিরা সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং যৌনসংগম থেকে (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) বিরত থাকেন, এর নামই রোজা। তবে অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়াবেটিক রোগী, ঋতুবতী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কাজা আদায় করে নিতে পারবেন।
কেবল পানাহার নয়, সকল প্রকার কুকর্ম, আবেগ ও রাগকে দমন করার নামই রোজা। সুবহ সাদেকের সময় উঠে খাবার খেয়ে রোজার নিয়ত করেন। এই সময়ের খাবারকে বলা হয় সেহরি। এরপর সারাদিন তারা সব রকম খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকেন। সূর্যাস্তের সময় ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে রোজা ভাঙেন রোজাদাররা। এসময় প্রতিটি মসজিদে রোজাদার মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকে। মসজিদগুলো থেকে দরিদ্রদের জন্যও ইফতার বিলানো দেয়া হয়ে থাকে।
এই ইফতারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের সংস্কৃতি। এক এক জাতি এক এক ধরনের খাবার দিয়ে ইফতার করেন। তবে সব মুসলিম দেশেই রমজানে গরীব দুখীদের সাহায্য করার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। এছাড়া আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো আর ইফতার পার্টির সংস্কৃতিও অনেক দেশে চালু রয়েছে।
আর রোজাদারদের প্রতি রাতে ইশার নামাজের পর পড়তে হয় তারাবির নামাজ। এই নামাজকে বলা হয় রোজার সাক্ষী। রমজানে প্রতিটি মুসলিমের জন্য তারাবি নামাজ ওয়াজিব।
এই রমজানে ধনী ও সম্পন্ন মুসলিমরা দরিদ্রদের যে দান সামগ্রি দিয়ে থাকেন তা জাকাত নামে পরিচিত। প্রতিটি সঙ্গতিপূর্ণ মুসলিম ব্যক্তির জন্য জাকাত ফরজ। অর্থ ও সম্পদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা পণ্য জাকাত হিসেবে দিতে হয়।
কখন শুরু হয় রমজান?
প্রতি বছর রমজান মাসের প্রথম দিনটি থেকে রোজা রাখা শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। চাঁদ দেখার পরই তারা রোজা রাখতে শুরু করেন। এ বছর মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু হয়েছে সোমবার, ৬ মে থেকে। এর একদিন পর রোজ রাখছেন বাংলাদেশের মুসলিমরা।
রোজা কতদিন?
রমজানের সময়কাল ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। আর এই সময়টাও নির্ধারিত হয় চাঁদের ওপর। ২৯ রোজার দিন রাতে নতুন চাঁদ দেখা গেলে তবেই হয় ঈদুল ফিতর। আর চাঁদ না দেখা গেলে আরো একদিন বেশি রোজা করতে হয়। সেক্ষেত্রে রমজান হয় ৩০টি। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আসে আনন্দের দিন, পবিত্র ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ।
রমজান মাসেই কেন রোজা?
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হচ্ছে রোজা। পবিত্র কুরআনে শারিরীক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা রাখার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই উপাসনা হিসেবেই রোজা রাখেন মুসালিমরা যার মাধ্যমে তাদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভ আরো সহজ হয়। রোজার মাধ্যমে কেবল যে ধর্ম পালন হয় তাই নয়, এটি মানুষের নানা ধরনের বদাভ্যাস দূর করে তাদের আরো সংযমী হতে সহায়তা করে।
রমজানের রোজা রাখার শুরুর প্রথম দশ দিন রহমতের, মাঝের দশ দিন মাগফেরাত কামনার আর শেষ ১০ দিন হলো নাজাতের।
অন্যান্য প্রতিটি মাসের চেয়ে রমজান মাস সর্বোত্তম বলে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়।
কখন শেষ হবে রোজা?
এ বছর ২৯ রোজা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশেই রমজান শেষ হবে আগামী ৩ জুন, সোমবার, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৪ জুন, মঙ্গলবার। এদিন সন্ধ্যায় সবাই নতুন চাঁদের খোঁজ করবে। এদিন শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালিত হবে মঙ্গলবার, ৪ জুন। আর চাঁদের দেখা না পাওয়া গেলে ৩০ রোজা হবে এবং ঈদ হবে বুধবার, ৫ জুন।
আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২৯ রোজা হলে ঈদ হবে আগামী ৫ জুলাই। আর ৩০ রোজা হলে ঈদুল ফিতর হবে বৃহস্পতিবার, ৬ জুন। এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষ হয় ঈদুল ফিতরের আনন্দ দিয়ে। এদিন সকালে সবাই ঈদগাহ বা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন এবং সবাই সবার সঙ্গে কোলাকুলি করেন। আর এভাবেই শেষ হয় পবিত্র রমজান।
সূত্র: আল জাজিরা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ