পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত মুরাদ হোসেন নামের এক কনস্টেবল চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার কাছে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার রাতে আমিনপুর থানার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের পুরান মাসুমদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।কনস্টেবল মুরাদ ওই গ্রামের সিরাজুল বিশ্বাস (৩৫)নামের এক যুবকের কাছে টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তাকে আটক করে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সিরাজুল ওই গ্রামের আমজাদ বিশ্বাসের ছেলে ও পেশায় সবজি ব্যবসায়ী।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রোববার সকালে তাকে পাবনা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সিরাজুল জানান, ওই কনস্টেবল তার কাছে চাঁদা দাবি করে। না হলে তাকে ইয়াবা ব্যবসা মামলায় আটক করার হুমকি দিয়েছিল।
ভুক্তভোগী যুবক সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গরমের কারণে বাড়ির পাশের ব্রিজে বসে ছিলেন সিরাজুল। এ সময় ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মুরাদ হোসেন নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে সেখানে যান। এ সময় কনস্টেবল মুরাদ ওই যুবককে চ্যালেঞ্জ করেন, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে আটকের হুমকি দেন।
এরপর কয়েক হাজার টাকা দাবি করেন। না পেয়ে তাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যেতে উদ্যত হন। এ সময় সিরাজুলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড় হলে মুরাদ হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রেখে আমিনপুর থানায় খবর দেন। পরে আমিনপুর থানার পুলিশ গিয়ে মুরাদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে আমিনপুর থানার ওসি তদন্ত জানান, মুরাদ নামের এক কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মুরাদ নামের ওই পুলিশ কনস্টেবলকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাবনা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, মুরাদ নামের একজন কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে এবং পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।

0 মন্তব্যসমূহ