বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ে পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের বিমানে স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে ঢাকার হয়রত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামেন মির্জা ফখরুল। পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
গত ৩ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য মির্জা ফখরুল তার সহধর্মিনীকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুর র্যাফেলস হসপিটালে তিনি চিকিৎসা নেন। সেখানে তার ঘাড়ের ইন্টারন্যাশ ক্যারোটিভ আর্টারিতে যে ব্লক রয়েছে তার পরীক্ষা করতে এনজিও গ্রাম করা হয়।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালত আমলে নেননি?- সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানেই প্রমাণিত হচ্ছে যেহেতু পুলিশের ওপর নির্ভরশীল এই সরকার, সেজন্য তারা (সরকার) তাদেরকে এসব কাজ থেকে ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। মোট কথা হচ্ছে- এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়, তাদের কোনো ম্যান্ডেট নেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে, জোর করে থাকার জন্যই তারা এই ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করছে।
তিনি বলেন, আমি গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরের আমার চিকিৎসার কিছু ফলোআপ ছিলো। ওখানে দুইদিন থাকার পর আমি অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছি। আপানারা সবাই জানেন, সেখানে আমার বড় মেয়ে (সামারুহ মির্জা) থাকে। আমি দলের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলাম যে, কিছুদিন একটু ওদের সঙ্গে কাটিয়ে আসব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অস্ট্রেলিয়াতে আবার আমার এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের একটা কনফারেন্স ছিলো। আর অস্ট্রেলিয়ার যে রুলিং পার্টি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি তারা আমাকে দাওয়াত করেছিলো তাদের ফেডারেল কনফারেন্সে। এটা শেষ করে আমি আজকে দেশ ফিরেছি।
তিনি বলেন, দেশে যখন সংবাদের ঘনঘটা ওই সময়টা আমি মিস করেছি। তবে আমি ট্র্যাকে ছিলাম, খোঁজ-খবর রেখেছি, অবজারভ করেছি। বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যার যে ঘটনা- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক, এটা ক্ষমাহীন একটা অপরাধ। এই অপরাধের পেছনে আমি সম্পূর্ণভাবে সরকারকে দায়ী করবে এজন্য যে, সরকারের রুলিং পার্টি আছে, তাদের প্রশ্রয়ে এসমস্ত এলিমেন্টসরা আজকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ গত কয়েক বছর ধরে একেবারেই লাগামীহীন হয়ে গোটা দেশে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে বিষয়টা নিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে- এটা কোনো মতেই কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একজন সাধারণ নাগরিক ছাত্র যে, তার দেশের স্বার্থ সম্পর্কে একটা মতামত দিতে পারবেন না- এটা কখনো চিন্তা করা যায় না। আমরা মনে করি যে, ভারতে যে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি যে চুক্তিগুলো করেছে, যেসব এমওইউ সেই করেছেন সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। শুধু তাই নয় বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘ্নিতও হয়েছে। যে কথাগুলো বলতে গিয়ে একজন প্রাণ হারাবে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মনে করি- এজন্যই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ছিলো।
ফখরুল বলেন, ভোলার ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমার সন্দেহ হয়, কোনো মহল থেকে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। যারা এই ধরনের লেখা লেখেন আমাদের রসুল (সা.) সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেন এটা নিন্দনীয়, একই সঙ্গে পুলিশ যে গুলি করেছে সেটা আরো বেশি নিন্দনীয়। এজন্য যে, আমরা দেখলাম ভোলায় কোনো রকমের বায়োলেন্স ছিলো না, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশ আক্রমন করেছে, গোলাগুলি করেছে। এতে প্রমাণিত হয়- ভিন্নমত প্রকাশে কোনো স্বাধীনতা নেই। যেটা আমরা বার বার বলে আসছি।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন করে এই সংকটের সমাধান করা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের পরিচালিত শুদ্ধি অভিযান কী রকম দেখছেন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, এই শুদ্ধি অভিযান সম্পূর্ণভাবে আইওয়াশ।
হযরত শাহ জালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দনে মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ, এসএম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খান, মো. ইউনুস আলী, তরুন দে প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ