উন্নয়ন মানেই রবিউল


শিক্ষা ও শিল্প-সাহিত্যের প্রতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী-এমপি. মহোদয় এর যে আত্মত্যাগ-নিষ্ঠা-বিনয়-দায়বদ্ধতা-সততা-মমতা-ভালোবাসার স্বাক্ষর রাখছেন এবং শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর যে অনিবার্য উপস্থিতি ও অঙ্গীকার, বর্তমান সমাজের নিরিখে তার তাৎপর্য সীমাহীন। আর এভাবেই তিনি বিপুল কর্মযজ্ঞের গুণে হয়ে উঠেছেন, স্বকালের শিক্ষা-সংস্কৃতির বাতিঘর।
তরুণ-তরুণী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত আগামী প্রজন্ম, শান্তিকামী সাধারণ জনতার—“জন্ম-জন্মান্তরের আশীর্বাদ”-‘অহংকার’। এ মাটির বরেণ্য পুত্র, তিতাস বিধৌত পলি মাটির ভূমি সন্তান- আপনার প্রতি ঋণ স্বীকার করছি- এ জনপদের প্রতি- এ মাটির প্রতি- ভাটি বাংলার রাজধানী খ্যাত এ অঞ্চলের প্রতি - আপনি আজন্ম উদারচিত্তে নিরলস কর্মী হয়ে উন্নয়নের আলোয় উদ্ভাসিত করে চলছেন।
লেখনীটি রাজনৈতিক কোন আঙ্গিক থেকে নয়। একেবারে সাধারন ছেলে হিসেবে মানুষের কথা বলতে লিখেছি। রাজনীতিতে পক্ষ–বিরুদ্ধ পক্ষ থাকবে- ইহাই অলংকার। আবার দলে–উপদল থাকবে তাও বৈশ্বিক ফ্যাশন। কিন্তু একজন মানুষকে তাঁর কৃত জনস্বার্থ ধর্মী কাজ তাঁকে রাজনীতির বিচার থেকেও মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে সমাজ। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন মানুষকে ভালবেসেছেন- মানুষের জন্য কাজ করেছেন। জননেতা, র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর প্রতি ঋণ থেকেই লেখা। 
জাতির জনকের আদর্শ সন্তান, জননেত্রী শেখ হাসিনার স্নেহসিক্ত উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বহু জ্ঞানী-গুনীর জন্মধন্য তিতাস পাড়ের এ সুরেলা জনপদে কল্যান রাজনীতি আর মানবতাবোধের সপ্তর্ষীময় আলোক মশাল নিয়ে, ঐক্য- সম্প্রীতি আর সৌহার্দের বারতা নিয়ে হাজির হয়েছেন। কবি জয়দুল হোসেন তার কবিতায় বলেছেন- “আমি একজন মানুষ খুঁজছি
যে মানুষ মানুষের আদর্শ হয়ে মানুষের মুক্তির জন্য হাঁটে পথে পথে গড়ে তোলে মজবুত ইমারত, সুবাসিত আবাস..............বীরের বেশে হাঁটে পথ, পথে পথে ফুটন্ত ফুল ফুলের সৌরভ ছড়ায়, জগতে অতুল নাম তাঁর রবিঊল, নাকি নজরুল?”
দেশবরেণ্য কবি আবু হাসান শাহরিয়ার একটি চমৎকার কলাম এর অভূতপূর্ব শিরোনাম লিখেছিল জাতীয় পত্রিকার “ রবিঊল একটি নদীর নাম।“ জনাব রবিউল মোকতাদির চৌধুরী'কে নিয়ে লিখা একটি অনবদ্য নিবন্ধ।
জনগণের প্রাণের নেতা, যুদ্ধাহত বীব মুক্তিযোদ্ধা, র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। এই জনপদের উন্নয়নের সকল রং তাঁর হৃদয়ের গহীন থেকে উৎসারিত। উন্নয়নের এই সৃজনশীল কারিগর তাঁর হৃদয় তুলির আঁচরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের মহাকাব্য রচিত করে যাচ্ছেন অবিরত।
“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”
মানবতাবাদী কবি চন্ডীদাসের এই মর্ম বাণীকে মননে ধারন করে মানব কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি এ জনপদের প্রমিথিউস। প্রমিথিউস যেমন অসীম সাহসিকতায় অপ্রতিরোধ্য দৈবশক্তির কাছ থেকে আগুন ছিনিয়ে এনে পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। তেমনি ভাবে ভাটিবাংলা রাজধানী তিতাসপাড়ের সর্বস্তরের জনগণকে শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের অবাধ পরিবেশ সৃষ্টি করে, কৃষি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতির সৃষ্টি করে।
আপামর জনসাধারণকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে তিনি এই জনপদকে উন্নয়নের অমিয় ধারায় স্নাত করে আলোকিত সমাজ বিনির্মানে নিরন্তর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের বাহক। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীলতায় বিশ্বাসী আওয়ামীলীগ এর রাজনৈতিক দর্শনের সাথে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারির উপনির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ব্যক্তি, জননেতা, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী জনগনের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পর থেকে একে একে রচিত হতে থাকে ইতিহাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, আবকাঠামো, কৃষি, বিদ্যুতসহ সকল ক্ষেত্রে নিপুণ কুশলী হাতের ছোঁয়ায় তিনি উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যান। এরপর ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েও উন্নয়নের সেই ধারাকে অব্যাহত রাখেন। অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার অধিকারী মানুষটির তার মেধা ও কর্মের বলে হয়ে উঠেছেন সত্যিকারের গণমানুষের নেতা। ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিপুল ভোটে ৩য় বারের মত এমপি. হন। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অহংকার তিতাস নদী। তিতাসের জলধারায় একসময় ছিল কূলভরা ঢেউ, বুকভরা উচ্ছাস, কালের আবর্তে আমাদের প্রাণের তিতাস আজ মৃত প্রায়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর মোকতাদির চৌধুরী প্রথম দিনই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি তিতাস রক্ষায় জোরালো দাবি উপস্থাপন করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং একাগ্রতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস খনন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করেন। আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে আমাদের মৃত প্রায় তিতাস। এছাড়া দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে এ পর্যন্ত তিতাস নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ নির্মাণ, বিভিন্ন খাল পূনঃ খনন, অবকাঠামো নির্মান বাবদ প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করেন। ফলে তিতাস তার হারানো রূপ আর প্রকৃতির নান্দনিকতায় ফিরে যেতে শুরু করেছে।
মাননীয় সাংসদ মহোদয়ের নানামূখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাঝে সর্বপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি অনন্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। দুরদর্শী প্রজ্ঞাবান এই মানুষটি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনই পারে এ এলাকার অবহেলিত মানুষের সকল উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে। তাই ১৯৯৬ – ২০০১ সাল পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব থাকাকালীন সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। সেই সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মান এবং ৩৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভূক্ত করেন যার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সূচনা হয়। সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনতা পরবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম বারের মতো উন্নয়নের ব্যাপক ছাপ পরে। প্রায় শতাধিক রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর উপজেলা, আশুগঞ্জ উপজেলা, সরাইলে গণতান্ত্রিক সরকারের ছোঁয়া লাগে মোকতাদির চৌধুরীর বদৌলতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব থাকার সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ বহুভাবে তখন উপকৃত হয়। বহুমন্ত্রী এমপি মহোদয়ের এলাকা থেকেও তিনি তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেশি কাজ করেন। একবার প্রধানমন্ত্রী ঠাট্টা ছলে এক উন্নয়ন ফাইলে লিখেছিলেন-‘আর কত ব্রাহ্মণবাড়িয়া?’ তখন বেশ কিছু নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন।
তখন সর্বত্র গুঞ্জরিত হত একটি কবিতা-
“স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ঘিরে, রবিউল আছে সবার তরে গ্রামীণ উন্নয়নের রূপকার, রবিউল মোদের অহংকার”।
বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে উন্নয়নের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি মোট ৭২ কোটি ১১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪১ টি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং ৬২ টি প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য ল্যাপটপ প্রজেক্টরসহ আনুষাঙ্গিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি প্রদান করেন। এসময় উনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৬৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করণ করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নানা উন্নয়ন প্রকল্প সম্পাদন করেছেন যার মধ্যে ২৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫৮ টি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় অবকাঠামোগত সংস্কার অন্তর্ভূক্ত। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ, বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কলেজে অনার্স, মাস্টার্স কোর্স চালু করে উচ্চ শিক্ষার পথকে সুগম করেন।
সম্প্রতি এ অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে প্রায় ০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাস এবং ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি প্রশাসনিক ভবন স্থাপন করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে এবছর সরকারি কলেজে ১১ টি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজী, সমাজ বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যা স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ১৩ বিদ্যালয় বিহীন গ্রাম খুঁজে বের করেন এবং সেখানে একটি করে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া দত্তখোলা গ্রামে তিনি একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন যা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এ জনপদে শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো তাকে মহিয়ান করে রেখেছে এবং অনন্তকাল এজন পদের নাগরিকগণ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি. মহোদয় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে মৌড়াইল ওভারপাস নির্মান করা হয়েছে। এতে একদিকে শহরের দুর্বিসহ যানজট নিরসন হবে তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো আধুনিক হবে। এছাড়া প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কুরুলিয়া সেতু ও প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রামরাইল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথদত্ত সেতু, ১৯ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চান্দুরা-আখাউরা সড়ক, ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হ্যালিডে সড়কসহ বেশকিছু কালভার্ট নির্মানের ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অপরিমেয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আপামর জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি সিমনা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাস্তা (শেখ হাসিনা সড়ক) নির্মাণের কাজ চলছে। 
প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজয়নগর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে পাসপোর্ট অফিস, ২ কোটি ৯৫ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে পুলিশ লাইনে মহিলা পুলিশ ব্যারাক, প্রায় ২৫ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চীফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন, ১০ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সার্কিট হাউস সম্প্রসারণ, সার্ভার স্টেশন, সাব-রেজিস্ট্রি ভবন, সি.আই.ডি অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপনাসহ নানা নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ একদিকে যেমন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাদূর করেছে তেমনি নাগরিক সেবার মানকে বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ। 
যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত জীবনের নানামুখী কর্মকান্ডে আরও গতিশীল করার লক্ষে বিদ্যুৎ খাতেও সাংসদ মহোদয় ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। এ পর্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের মোট ২২৯ .৪৯ কি.মি. বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও বেশকয়েকটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও ট্রান্সফরমার স্থাপন এ খাতের বিরাট অর্জন। সদর ও বিজয়নগর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে।
কৃষি নির্ভর এই জনপদের উন্নয়নের কৃষিক্ষাতের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকে আধুনিকায়নের নিমিত্তে উন্নত সেচব্যবস্থা, আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রসার, উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার বিতরণসহ নানা খাতে দুই মেয়াদে তিনি প্রায় ৪৪ কোটি ২০ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় করেন। সমাজে পিছিয়ে পরা ও অক্ষম জনগোষ্টির উন্নয়নে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যাক্তা, মাতৃকালীন ভাতা প্রদান, বিভিন্ন এতিমখানায় সহায়তা, উপবৃত্তি প্রদানসহ নানা ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাক্তিগতভাবে দুঃস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠির বৃহৎ কল্যাণে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন নিভৃতে।
গতানুগতিক ও প্রথাগত রাজনীতির বিপরীতে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মূলক রাজনীতির নতুন ধারা রচনা করেন। নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গৃহীত ও সম্পাদিত সকল কাজের বিস্তৃত বিবরণ প্রতিবেদন আকারে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের আর কোন সংসদ সদস্য এতটা জবাবদিহিতার রাজনীতি করেন বলে আমাদের জানা নেই। ভূমিদস্যুতা, টেন্ডারবাজি, দলীয়করণ, রাহাজানি, রাজনৈতিক সংঘাত, সামাজিক দ্বন্দ্ব তিনি শূন্যের কৌটায় নিয়ে আসতে প্রানান্ত চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।
এমপি. মহোদয় কারণে কত নিরাপদ এ জনপদের সংখ্যালঘুরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক ইঞ্চি জায়গাও মোকতাদির চৌধুরীর আমলে কেহ দখল করতে পারে নি। পূজা পার্বন তারা যেকোন সময়ের চেয়ে মহা উৎসাহে পালন করছে। হারিয়ে যাওয়া নৌকা বাইচ তাঁর একক প্রচেষ্টায় আবার তিতাসের কোলে ফিরে এসেছে। সে এক অনন্য নয়নাভিরাম বাঙ্গালীত্বের এক মহা মিলন।
বর্তমান সময়ে যেভাবে জাতীয় ও ঐতিহ্যধর্মী অনুষ্ঠান হয় তা আগে কল্পনাও করা যায় নি। তার পৃষ্ঠ পোষকতায় দুবাংলার বুদ্ধিজীবিদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসব, অদ্বৈত মেলা সহ বিভিন্ন উৎসব। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারীর ধ্বংসলীলা কাটিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বিশেষ করে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গণ, সাহিত্য একাডেমি, তিতাস আবৃত্তি সংগঠন সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে সক্রিয় ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুঃস্থ – অসহায় ছাত্র–ছাত্রীদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা করে যাচ্ছেন।

লেখক- শেখ এমরানুল ইসলাম 
সহ-সভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ