বিজয়নগরে সরকারি গোচারণভূমি দখলের অভিযোগ

আলমগীর হোসেন-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলায়  শতবর্ষ পুরনো ঐতিহ্যকে বিলীন করে গোচরণ ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে কৃষকরা সকালে উঠে তাদের পালিত পশু গরু-ছাগল নিয়ে ভূমিতে আসতো, সেই গোচারণভূমি আজ সংকীর্ণ ও বিলীন হওয়ার পথে। দেখা যায় না কোন গরু ছাগল। বিলিন হয়ে যাচ্ছে  পশু বিচরণের অভয়ারণ্য। 


শতাধিক লোকের সমর্থনে অভিযোগে জানা যায়, চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাওঁ গ্রামের হাজারো কৃষকের ব্যবহৃত সরকারি গোচারণভূমি কোন প্রকার অনুমতি ব্যতীত ধাপে ধাপে কয়েক বিঘা জায়গা দখল করে ফেলেছে অভিযুক্ত হুমায়ুন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  গোচারণ ভূমিটি শতবর্ষ পুরনো। এখানে স্থানীয় এলাকার কৃষকের গরু ছাগলের বিচরণ ভূমি ছিল। হুমায়ুন সহ তার নেতৃত্বে কিছু আশপাশ লোকগুলো দখলে নেওয়াতে কৃষকরা এখন বিপাকে। 


হুমায়ুন মিয়া উপজেলা চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের ফায়েজ মিয়ার ছেলে। তারই আত্মীয় হলি আহাদ নামে একজন প্রবাসী জানান, হুমায়ুন আগে মোবাইল চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।ধর্ষণের হত্যা মামলায় কারাগার ভোগও করেছে সে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক  সাবেক মেম্বার  জানান, গত কয়েক বছর আগে এলাকার কালিসীমা নামক স্থানে অটো গাড়ি চুরি ধরা পড়েছিল।  তখন আমি মেম্বার থাকাতে তাকে বাঁচিয়ে এনেছি। ২০২১ সালে ধর্ষণে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে কয়েকবার জেল খেটেছে হুমায়ুন। 


বর্তমানে বিএনপি দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় বড় নেতা দাবি করে এলাকার বিশিষ্টজনের নামে নানা রকম বিভ্রান্ত ও আপত্তিকর পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারের যুক্ত রয়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ভিটি পাইয়ে দিবে বলে ফুল বাদশা নামক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চুক্তিতে দশ হাজার টাকা অগ্রিম দাবি করেন। সে দালালি সহ নিরীহ মানুষের কাগজপত্রাদি ঠিক করে দিবে বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে বলে অভিযোগ রয়েছে । প্রতিবেশী চৌধুরী বাড়ির, বর্গাকৃত গরু নিজেই বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 


অভিযোগ রয়েছে,  হেলেনা বেগম নামক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ৬০ হাজার টাকা গত ২০১৮ সাল থেকে আত্মসাৎ করে রেখেছে। তার স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা থাকলেও নিয়মিত অস্বীকার করে যাচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, সে একজন বাজে প্রকৃতির  লোক। তার এসব অপকর্মে দলীয় সহযোগিতা না থাকলেও নেতাদের পাশে থেকে ছবি তুলে সে ছবিকে পুঁজি করে নিজেকে স্থানীয়দের মাঝে বড় নেতা দাবি করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে। আমি বৈধ উপায়ে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ভুমি লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে, আক্রোশের বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দিয়ে আসছে যার কোন ভিত্তি নেই। হুমায়ুন, শিশু মিয়াকে দিয়ে একটি ৯ নং প্লটের অভিযোগ করিয়েছে, যেখানে শিশু মিয়াকে আমি চিনিনা। ৯ নং প্লট আমার নয়।শুশু মিয়ার লিজ আরো আগেই বাতিল হয়ে গেছে। আমি এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনে হস্তক্ষেপে তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।


এ বিষয়ে সালিশ  কারক বাবুল সরদার এসবের সত্যতা শিকারে বলেন, গোচারণ দখলের কথা সত্য, অপরের গরু বিক্রি করেছে সেটাও সত্য। সে সমাজের ভাইরাস। 


এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ একে ফজলুল হক বলেন,  চাঁদাবাজির অভিযোগটি পেয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে মানহানিকর কথাবার্তা বলা অপরাধ। তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান গোচারণ ভুমি দখলের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ